জাতি এবং রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।


জাতি একটি শব্দ যার অর্থ এক এবং রাষ্ট্র আরেকটি, যদিও কয়েকটি জাতি মিলে একটি রাষ্ট্র গড়ে ওঠে তবুও জাতি এবং রাষ্ট্রের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। জাতীয় এবং রাষ্ট্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য গুলি হল নিম্নরূপ- 

জাতি এবং রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য: 
  •  রাষ্ট্র গঠিত হয় মূলত চারটি উপাদান নিয়ে, সেগুলি হল সাধারণত – জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমিকতা। অপরদিকে জাতি গঠনের জন্য কিন্তু এই উপাদানগুলির কোনটার প্রয়োজন হয় না। জনসমাজের মধ্যে গভীর ঐক্য হলো জাতি গঠনের মূল উপাদান। তাহলে নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে যে জাতি এবং রাষ্ট্র পর্যায়ভুক্ত নয়। 
  •  আমরা সকলেই জানি যে রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। রাষ্ট্রের হাতে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা সরকারের মাধ্যমে প্রযুক্ত হয়। জাতি বলতে যা বোঝায় তা সার্বভৌম ক্ষমতা বা ক্ষমতা প্রয়োগের যন্ত্র, সরকার নয়। 
  •  একটি নির্দিষ্ট ভূখন্ডে একটি জনসমাজ আইনগতভাবে সংগঠিত হলে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। কিন্তু জাতি বলতে এমন এক জনসমাজকে বোঝায় যাদের মধ্যে একসঙ্গে বসবাসের সাধারণ ইচ্ছা আছে, এবং যারা মনস্তাত্ত্বিকভাবে সংগঠিত। 
  •  রাষ্ট্র এক জাতি বা বহুজাতিক হতে পারে। এক জাতি ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র হল – জার্মান, তাছাড়া জাপান সুইডেন প্রভৃতি একজাত ভিত্তিক রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। বহুজাতিক রাষ্ট্র হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া প্রভৃতির মত দেশ গুলি। রাষ্ট্র ও জাতির আয়তন খুব কম ক্ষেত্রেই সমানুপাতিক হয়। 
  •  জাতির নিজস্ব রাষ্ট্র বিলুপ্ত হতে পারে, কিন্তু জাতি টিকে থাকতে পারে। এখানে জার্মানি ও জাপানিদের কথা উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে। যে ক্ষেত্রে তাদের রাষ্ট্রের সংকট দেখা দিলেও জাতি হিসেবে কিন্তু তারা আবশ্যিকভাবে টিকে ছিল। 
  রাষ্ট্র একটি আইনগত ধারণা। অন্যদিকে জাতি হল ভাবগত ধারণা। এদের মধ্যে একাধিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও জাতি এবং রাষ্ট্র পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক। এদের মধ্যে পারস্পরিক গভীর সম্পর্ক আবশ্যিকভাবে বর্তমান। অতি ক্ষেত্রে কোন না কোন জাতির প্রচেষ্টায় স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। আবার জাতি পূর্ণতা লাভ করে, একটি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের মধ্যেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন for "জাতি এবং রাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্য আলোচনা কর।"